শিবাশিস চট্টোপাধ্যায় || ঊনবিংশতি পর্ব

গদাধরের বাউদিয়া || ধারাবাহিক

120
VIEWS

আমাদের বাড়ির বহির্মহল সংলগ্ন বারান্দাটি দেখতে ছিল অবিকল নাটমন্দিরের মতো। তখনকার দিনের ঘর, মাটির মেঝে— আমরা মার্বেল খেলি, মোটা মোটা, কোমর-বাঁকা, কাঠের খুঁটি ধরে ঝুলে ঝুলে গোল গোল ক’রে ঘুরি। আমি আর মৌ। কখনও আবার মৌকে পিঠে, ঘাড়ে ক’রে নিয়ে ঘুরে বেড়াই লিচুগাছতলায়, কুলগাছের কুল, আতাগাছের আতা খাই, আমবাগানে ঘুরঘুর করি। আর একটা কাজ করি, বা অকাজই হয়ত। দাদুর ঘরের এক দরজা দিয়ে ঢুকে অন্য দরজা দিয়ে স্পীডে বেরিয়ে যাই। এমনি এমনি করি না, ইচ্ছে করেই তেমন করি, কারণ মৌ-কে ঘাড়ে বা পিঠে তোলায় ছিল দাদুর উপর্যুপরি বারণ, তীব্র আপত্তি, যাকে বলে। কখনও চোখে পড়লেই রীতিমতো খেঁকিয়ে উঠতেন:

এতো কইরে কই তবু শোনে না, বাঁদর একখান।

কতদিন বলসি– মেয়ে ঘাড়ে করে না, মেয়ে ঘাড়ে করে না…কান দেলে তো!

‘মেয়ে ঘাড়ে করে না’— প্রথমদিন এই বাণী শ্রবণ ক’রে একেবারে থ বনে গিয়েছিলাম। বুঝতেই পারছিলাম না, কেন। তাছাড়া ছোটবোনের আব্দার ফেলিই বা কী করে! শুনতে শুনতে একসময় মনে বেশ খানিকটা জেদও চেপে গেলো। ভাবখানা এমন, বুড়ো বলছে বলুক— বললেই যে শুনতে হবে তার কী মানে? ‘মেয়ে ঘাড়ে করে না’— এ কথার প্রতীকি তাৎপর্য বুঝেছি অনেক পরে। এ সভ্যতা সব থেকে বেশি ভয় পায় বোধহয় নারীকেই— নারীর সৌন্দর্য, মায়া, তাকানোর ভঙ্গি, ইশারা, আদর সব কিছুকেই তাঁর ভয়। অথচ তাঁর ভালবাসাও চাই— নারীর হৃদয়-সিংহাসন হবে তাঁর জন্য একছত্র। সেখানে অন্যের সামান্য দৃষ্টিপাতও তাঁর সহ্য হবে না— সে জ্বলে-পুড়ে খাক হয়ে যাবে। এ এক মস্ত ধাঁধাঁ, যা আজও আমার ঠিক বোধগম্য হল না। তখন কচি বয়স। ‘মেয়ে ঘাড়ে করা’ কাকে বলে তখন কি আর বুঝি? মৌ আমার আপন মায়ের পেটের বোন। ভাই-বোনরাও ছেলে-মেয়ে হয় নাকি! দাদু একদা বিপ্লবী– তবে, সংস্কার কতো কী যে করিয়ে নেয়— আর মরলেও এ জিনিস যায় না।

     সংস্কারের ঘরে এমনকি বিপ্লবীদের জন্যও কোনও ছাড় থাকে না বোধহয়!

     মনে মনে ভাবতে চেষ্টা করছি, দাদুর মাথাটা বোধহয় পুরোপুরিই গেছে! বড়দের মুখেও গোপন ফিসফিস শুনি— বুড়োর ভীমরতি হয়েছে। ভীমরতি কাকে বলে, ঠিক কী ধরনেরই বা রতি— সেও বুঝি না। তিনি সবই ভুলে যান, এমনকি ভাত খাওয়ার পরমুহূর্তেই খেয়েছেন কিনা ঠিকঠিক স্মরণ করতে পারেন না। বাবাকে হয়ত অভিযোগই করে বসলেন, বৌমা আমায় আজ খেতে দেয়নি। এরকম কতো হয়েছে। তাঁর ওপর নানান বিধিনিষেধ তো আছেই। মা কলকাতার মেয়ে, ভাল গান জানতেন। গীতশ্রী গৌরী দত্ত ও সুপ্রীতি ঘোষের ছাত্রী ছিলেন যৌবনে। মা সেই গান ভুলে গেলেন প্রায়। বাড়ির বউ মাথায় ঘোমটা দেবে। জোরে কথা বলবে না— গান তো দূর অস্ত। গৌরীপুরের আবহাওয়া বরাবরই খোলামেলা। কুসংস্কার, অন্ধবিশ্বাস, জাতপাতের প্রকোপ সমাজে তেমন ছিল না। রাজাদের উদারতায় সমাজ বদলে গিয়েছিল কিছুটা, হয়ত। তবে দাদুর সব ভুল হয়ে গেলেও প্রাচীন বিধি-নিষেধে ভুল হচ্ছে না একদম। বুড়ো বয়সে মাথায় যেন বেশি বেশি কিলবিল করত মান্ধাতার আমলের রীতি-রেওয়াজ। সহজ মনে হলেও, চিন্তার সামন্ততন্ত্র থেকে মুক্ত হওয়া অতো সহজ নয়। অনেক পরে,আমার একজন শিক্ষক একদিন কথায় কথায় বলেছিলেন— You’re not free as long as feudalism is in your veins।

     আমার দিদি, তখন সবে ক্লাশ সেভেন, একদিন আপন মনে গলা ছেড়ে গান গাইছে। জনপ্রিয় গান— সে গান মাঠে-ঘাটে সর্বত্র মাইকে বাজছে তখন। সেকালে রাস্তা-ঘাটে, দোকানে, মাঠে-ময়দানে ফুল ভল্যুম মাইকের গান শুনে শুনেই লোকের মুখস্ত হয়ে যেত। গানটা ছিল—

মানুষ জন্ম দিয়ে বিধি পাঠায়ো না পৃথিবীতে,

যতো দুঃখ পেলাম আমি মাপার মতো নেইকো ফিতে

     গৌরীপ্রসন্ন মজুমদারের কথায় কিশোর কুমারের গাওয়া। বড়দিদি আপনমনে গাইছে সে গান, দাদু কম্বল মুড়ি দিয়ে শুনছেন আর হয়ত মনে মনে তিতিবিরক্ত হয়ে উঠছেন। মেয়েমানুষের এতো আওয়াজ ভাল না। সে যাই হোক, সে গানের এক জায়গায় এরকম কথা ছিল—

একদিনেরই জীবন হলেও ফুল হয়ে যে জন্ম নেবো

ভোমরা খাবে মধু আমার বাতাসকে যে গন্ধ দেবো

     ব্যস, দাদু আর থাকতে পারলেন না।। হঠাৎ ঝটকা মেরে কম্বল সরিয়ে জোরসে ধমক দিয়ে উঠলেন—

ভোমরা কি তোর সব মধু খেয়ি ফেললে নাকি?

এ কেমন গানের কতা? এইগুলা গান? ছিঃ ছিঃ ছিঃ…

     দাদুর আপত্তির জায়গাটা এবার বেশ পরিষ্কার। ভ্রমরের মধুপানের উল্লেখে দাদুর প্রাচীন, সন্দিগ্ধ মন ইরোটিক গন্ধ পেয়েছে, যদিও পুরো গানটি আসলে মোটেও সেরকম নয়। বড়দিদিও হকচকিয়ে গেছে একদম— কাঁদো-কাঁদো অবস্থা। কথার কতোরকম মানে হয়! মনের গঠন অনুযায়ী একেকজনের কাছে একেক রকম অর্থে সে ধরা দেয়। এখন ভাবি, দাদু বেঁচে থাকলে, আজকালকার গান শুনলে কী করতেন! এখনকার দাদুরা সব কেমন হয়? আমার জ্যাঠার ও বাবার দাদু হওয়ার সুযোগই হয়নি, কারণ অকালমৃত্যু। ছোটকাকুর হয়েছে, তবে তাঁর অভিজ্ঞতা কেমন জানার সুযোগ হয়নি। বহুদূরের শহর শিলচরে থাকতেন বরাবর— আর শেষ বয়সে বর্তমানে আছেন কলকাতায়। আমার যদি কোনোদিন দাদু হওয়ার সুযোগ হয়, তখন নাহয় বোঝার চেষ্টা করা যাবে, দাদুদের মন।

     দাদু আমার মায়ের সাথে পেরেছিলেন কিছুটা, তবে আমাদের সাথে মোটেও এঁটে উঠতে পারেননি। আমরা বিদ্রোহ করলাম— আমি আর মৌ— দিনে অন্ততপক্ষে পঞ্চাশ বার রোজ মৌ-কে পিঠে বা ঘাড়ে নিয়ে দাদুর বিছানার সামনে দিয়ে দৌড় লাগাই। দৌড়ে যাবার সময় মাঝামাঝি জায়গায় চির-ধরা পাকার ওপর একটু থামি আর মুড়ি-দেয়া কম্বলের নীচে উৎকর্ণ হয়ে থাকা দাদুকে উদ্দেশ করে বলি— দাদু, ও দাদু, কম্বল সরিয়ে একটু দ্যাখো— মেয়ে ঘাড়ে করে না।

     দাদু কম্বল সরিয়ে মুখখানা বের করতেন, দাঁত খিঁচোতেন, গালি দিতেন যশুরে ভাষায়।

     এইরকম চলছিল। তবে দেখতে দেখতে একসময় দাদুর দাঁতখিঁচানি থেমে গেল। তার স্থান ক্রমে অধিকার করল এক নির্মল, কৌতুকপূর্ণ হাসি। বয়স, বার্ধক্য হেরে গেল জেদি, অনমনীয় শৈশব-কৈশোরের কাছে। এর কিছুদিনের মাথায় দাবি আদায়ের লক্ষে আরেকটি সফল আন্দোলন করেছিলাম আমরা দাদুর বিরুদ্ধে। সে কথায় পরে আসা যাবে।

     দাজু পাঠশালা স্কুলে একই ক্লাশে পড়ি আমি আর মৌ। এক-দেড় কিঃমিঃ হেঁটে স্কুলে যাই। পথে একটা হিন্দী স্কুল পড়ে। সে স্কুলের মাঠে, রাস্তার ধারে এক পাগলী বসে থাকে— চরম উসকো-খুসকো, অবিন্যস্ত, প্রায় জট-পড়া চুল, পাগলীদের যেমন হয়। আমাদের ভীষণ ভয় করে ওই রাস্তা দিয়ে যেতে। হিন্দী স্কুলের কাছাকাছি পৌঁছে পিঠের ভারি ব্যাগসহ আমরা দৌড় মারি ঊর্ধশ্বাস, পাগলী হাসে খিলখিল ক’রে, আমাদের হাতছানি দিয়ে ডাকে, ধরতে আসে। পিছু নেয়। সব পাগল-পাগলীকেই যে খুব ভয় পেতাম তেমন নয়, খাতিরের পাগলও ছিল— সাধাসিধে, গোবেচারা, ভাবুক। তখন পাঠশালা স্কুলে নয়, একটু বড় হয়েছি গায়েগতরে। নতুন বন্ধুও হয়েছে একজন, নাম রঞ্জন কলিতা। ওরা বেশ বড়লোক, বাবা ‘ডি আই সি সি’ অফিসের ফাংশনাল ম্যানেজার। রঞ্জন পড়াশোনায় খুব ভালো— তাছাড়া, আর সকলের মতো, শুধু সিলেবাসেই তাঁর পড়াশোনা আটকে ছিল না। সেই বয়সেই নিজের নামে গৌরীপুর পাবলিক লাইব্রেরির কার্ড ছিল ওর। ওর সুবাদে বহু দুষ্প্রাপ্য বই সে বয়সেই আমার পড়া হয়ে যায়। আমার একারই নয়, বাড়িতে যখন বই নিয়ে ঢুকতাম, ভাইবোনদের মধ্যে কাড়াকাড়ি পড়ে যেতো কে আগে পড়বে। তখন বাবা করতেন এক অদ্ভুত সমাধান। বইটি বগলদাবা ক’রে গটগট করে সোজা তাঁর বৈঠকখানায় চলে যেতেন। কাকস্য পরিবেদনা! সে যাই হোক, বন্ধু রঞ্জন বুঝত লাইব্রেরির কার্ড করার ক্ষমতা, মানে পয়সা আমার নেই। বাবার কাছে যে চাইবো সে সাহসও নেই। ফলে, রঞ্জনরা গৌরীপুর থেকে চলে যাবার আগে লাইব্রেরিয়ানকে ধরে ওর কার্ডটা আমার নামে করিয়ে দিয়ে যায়। জীবনে হয়ত অনেকের অনেক উপকার ভুলে গেছি, কিন্তু রঞ্জন যে উপকারটা করেছিল সেটা ভুলিনি। ভোলা যায় না।

      রঞ্জন আর আমি ঘুরে বেড়াই, ব্যাডমিন্টন খেলি, ক্রিকেট খেলি। ব্যাডমিন্টনের র‌্যাকেট-শাটল-নেট, ক্রিকেটের ব্যাট-বল সবই রঞ্জনের। আমি ও আমার বন্ধুরা সবাই মিলে খেলি। মর্নিং ওয়াকে যাই রোজ একসঙ্গে, ফিরে আসার পথে মেঘরাজের কাপড়ের দোকানের সামনে মোহিত পাগলার কাণ্ড-কারখানা দেখি। মোহিত পাগলা কোত্থেকে এসেছিল বা শেষদিকে কোথায়ই বা উধাও হয়ে গিয়েছিল, জানি না, তবে কিছুদিন আমাদের আমোদ ও চিন্তার খোরাক— দুটোই জুগিয়েছিল সে। গড়গড় ক’রে ইংরেজি বলতে পারত, সকাল সকাল একখানা ইংরেজি পেপার জোগাড় ক’রে বন্ধ দোকানের সিঁড়িতে বসে জোরে জোরে পড়ত। তখন তাঁকে খুব উজ্জীবিত দেখাত। যে সে পাগল তো নয়, রীতিমতো পড়াশোনা-জানা পাগল। তবে বাকি দিনটা, বিশেষ ক’রে সন্ধের দিকে সে উদাস হয়ে যেত। বিরস, বিষণ্ণ মনে আদাড়ে-বাদাড়ে, নির্জনস্থানে হেঁটে বেড়াত, গদাধরের তীরে বা লাউখাওয়ার পারে, ভেড়ভেড়ির মাঠের দিকে, পাকাপুলের ওপর বসে থাকত।

     একদিন এক নিভন্ত, নিভৃত বিকেলে আমি আর রঞ্জন মোহিত পাগলাকে আবিস্কার করলাম মহামায়ার মাঠের দক্ষিণের গোলপোস্টের কাছে। একদম চুপচাপ— মুখে কথা নেই, ছোটাছুটি,হুটোপাটি নেই। খুব কৌতূহল হল, মোহিত পাগলা কী করছে ওখানে? একদম সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম দুজনে। প্রায়ান্ধকারে লক্ষ করলাম, সে আপন খেয়ালে বিড়বিড় ক’রে যেন নিজের সাথেই কথা বলছে—

দড়াম কইরা শব্দ হইল

     এবারে তাঁর কথা স্পষ্ট শোনা গেল। কোন শব্দের কথা বলছে মোহিত পাগলা? আমি আর রঞ্জন মুখ চাওয়াচাওয়ি করি। একটু কৌতুকও যেন অনুভব করছি।

     সামনা-সামনি তাঁকে আমরা মোহিতদা বলে সম্বোধন করতাম। তবে, স্পষ্টতই, তাঁর বয়স তখন চল্লিশের কোঠায় তো হবেই।

অমন কইরা কেউ দরজা বন্ধ ক’রে?

     মোহিতদা বিড়বিড় নয়, একটু আওয়াজ করেই বলে চলেছে— কার সঙ্গে কে জানে!

     বেশ বুঝতে পারছি, সে এখন অন্য জগতে। হয়ত সুদূর অতীতের কোনও দৃশ্যপট সহসা উন্মুক্ত হয়েছে তার চোখের সম্মুখে। অন্ধকারে জ্বলজ্বল করছে তাঁর চোখ— চোখে অসহায় শূন্যতা।

দেবী, ও দেবী, দরজা খোল, খোল না…

    আবছা অন্ধকারে এবার যেন সে আমাদের দেখতে পেলো। দেখতে পেয়েই কাছে ডাকতে লাগলো। ডান গালটা বাড়িয়ে দিয়ে সেদিকে আঙুল তাক ক’রে বলতে লাগল—

ইদিকে দ্যাখ, ইদিকে দ্যাখ

     কী দেখবো গো, মোহিতদা? আধো অন্ধকারে কি ভালো দেখা যায়?

      তখন অন্ধকার আস্তে আস্তে প্রায় ঘিরে ধরছে। পাগল আবার কিছুক্ষণ চুপ… একইরকম ভাবলেশহীন। আমরাও দাঁড়িয়েই আছি, অপেক্ষায়—

ভাল ক’রে দ্যাখ…থাপ্পড়ের দাগ

     সেদিন বিশেষ কিছুই বুঝে উঠতে পারিনি। অনেক দেরিতে হলেও, মনে হয়, শেষমেষ একটু বুঝেছি সে অলৌকিক কথোপকথনের ইঙ্গিত। হতে পারে ভেতরের গল্পটা অন্যরকম— আধ্যাত্মিক, গুপ্ত সাধনজীবন সংক্রান্ত! বা, হয়ত দেবী নামের কোনও মেয়ে সেই কবে প্রত্যাখ্যান করেছিল চোস্ত ইংরেজি-জানা, সদ্য যুবক মোহিতের ভালবাসা। কৈশোর বা যৌবনের উদ্বেল, সন্ধে-ছুঁইছুঁই কোনও বিকেলে হয়ত সশব্দে বন্ধও হয়ে গিয়েছিল সেই স্বপ্ন- দরজা। বন্ধ দরজারাও কিন্তু একসময় আবার খোলে। সে দরজাও হয়ত বহুবার তার আগল খুলেছে, আবার বন্ধ হয়েছে— কিন্তু মোহিত পাগলার স্মৃতির ধূসর দেয়ালে দেয়ালে আজও ধাক্কা খেয়ে ঘুরে মরছে, প্রতিধ্বনি তুলছে, এক দড়াম ক’রে বন্ধ হওয়া দরজা, কবেকার এক তীব্র প্রত্যাখ্যান। সে দরজা, সে রহস্য আর কোনোদিনই খুলবে না। মোহিত পাগলার গালে সত্যিসত্যিই অতীতের থাপ্পড়ের দাগ তখনও লেগে ছিল কিনা জানি না। তবে মহাকালের গালে কতো যে থাপ্পড়ের দাগ লেগে থাকে, কে তার হিসেব রাখে?

Next Post

Leave a Reply

Your email address will not be published.

RECENT POSTS